দাওয়াহ নাকি ধ্বংস” আমরা যখনই দাওয়া শব্দটি উচ্চারণ করি তখন “দাওয়াত” এর কথা মনে পড়ে। “দাওয়াত” উচ্চারণের সাথে সাথে কোন লাঞ্চ বা ডিনার পার্টির কথা আমাদের মনে উদয় হয়। কিন্তু আমরা এখন যে দাওয়াহ নিয়ে আলোচনা করছি সেটা হল “দাওয়াতুল ইসলাম” বা “দাওয়াতুল হক” অর্থাৎ “সত্যের পথে আহ্বান” বা ইসলামের পথে ডাকা” এখানে কোন ভোজসভার নিমন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে না। যখন আমরা “দাওয়াতুল ইসলাম” বলি তখন এর অর্থ হচ্ছে এমন কোন ব্যক্তির নিকট ইসলামের বাণী পৌছানো যে মুসলিম নয়, অমুসলিমের নিকট ইসলামের ডাক পৌছে দেওয়াই ‘দাওয়াহ”।

আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-ইমরানের ১১০ নং আয়াতে বলেছেন-

“তোমরা হচ্ছ শ্রেষ্ঠ উম্মত বা জাতি, তোমাদেরকে মানব জাতির জন্য বের করা হয়েছে।“

আমরা জানি সম্মান বা শ্রেষ্ঠত্ব এমনি এমনি আসে না। এর সাথে আসে দায়িত্বের কথা। আমরা বলি প্রধান শিক্ষকের সম্মান সহকারী প্রধান শিক্ষকের চেয়ে বেশী। আবার সহকারী প্রধান শিক্ষকের সম্মান অন্যান্য শিক্ষকের চেয়েও বেশী। অনুরূপভাবে অন্যান্য শিক্ষকের সম্মান কর্মচারীদের থেকে বেশী। আমাদের এই ধারণা আরও একটি বিষয়কে মনে করিয়ে দেয়। আর তা হচ্ছে – প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সহকারী প্রধান শিক্ষকের চেয়ে বেশি। যেরূপ সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অন্যান্য শিক্ষকের চেয়েও বেশী। একইভাবে অন্যান্য শিক্ষকের দায়িত্ব কর্মচারীদের থেকে অধিক। এভাবে দেখা যায় আমরা স্বাভাবিকভাবেই সম্মানের সাথে দায়িত্বে একটি যোগসূত্র খুঁজে পাই আর তা হলো অধিক সম্মান অধিক দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত করে। তাই যখন আল্লাহ আমাদের শ্রেষ্ঠ মানুষের সম্মান দিয়েছেন তেমনি দায়িত্বও দিয়েছেন। সাথে সাথে সে দায়িত্বও বলে দিয়েছেন। আর তা হলো- “তোমরা ভাল কাজের আদেশ দাও আর খারাপ কাজের নিষেধ কর। তাই যখন কোন মুসলিম “ভাল কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধ” এই দায়িত্ব থেকে মাথা সরিয়ে নেয় তখন সে আর নিজেকে শ্রেষ্ঠ মানুষের সম্মানের অধিকারী বলে দাবি করতে পারে না। কেননা শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানের জন্য যে দায়িত্ব তা সে পালন করে না। এভাবে দায়িত্বের অতি অবহেলা ‘খাইরা উম্মত’ বা উত্তম জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে বিরত রাখে। তাই ‘দাওয়াহ’ তথা ইসলামের দিকে আহ্বানে বিরত থাকা প্রকৃত মুসলিম তথা ‘খাইরা উম্মত’ হওয়ার অন্তরায়। তাই দায়িত্ব সচেতনতা তথা ভাল কাজে সহযোগিতা ও মন্দ কাজ হতে মানুষকে বিরত রাখার আঞ্জাম প্রকৃত মুমিনের সার্বক্ষণিক কর্তব্য।

আল্লাহ তায়ালা ভাল-মন্দের এ পার্থক্য নির্দেশ সহ মুমিনের আরেকটি গুন উল্লেখ করে সূরা আল বাক্কারার ১৪৩ নং আয়াতে বলেছেন-

‘আর আমি তোমাদের করেছি মধ্যম পন্থা অবলম্বনকারী। একজন মুমিন যেমন ভাল কাজে উৎসাহ প্রদান করে তেমনি মন্দ কাজও চোখ বুঁজে চলতে দেয় না। কেননা মুমিন হল অন্যান্য জাতির সাক্ষী যেমনিভাবে মহানবী (স) হলেন মুমিনদের সাক্ষী’।

অন্যান্য জাতির সাক্ষী হওয়ায় মুমিনের দায়িত্ব সব সময় মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করা। তাই মুমিন যখনই কোন অন্যায় হতে দেখে তখন সে তা বন্ধ করতে চেষ্টা করে, কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল আমরা মুসলিমরা আমাদের এই দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করছি না।

বিস্তারিত জানুন নিন্মের জাকির নায়েকের লেকচার বই “আল্লাহ’র প্রতি আহ্বান তা না হলে ধ্বংস” থেকে …

 

 

Bangla Quran and Hadith Facebook comment

(Visited 2,025 times, 1 visits today)